October 14, 2026, 3:58 am
যমুনা নিউজ বিডি: ফুটবল বিশ্বের কোটি ভক্তের কাছে ২৪ জুন একটি বিশেষ দিন। এই দিনেই জন্ম নিয়েছিলেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নাম।
১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেওয়া মেসির শৈশব ছিল সংগ্রামে ভরা। আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ছোটবেলায় গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু প্রতিভা, অধ্যবসায় ও পরিবারের সমর্থনে সব বাধা পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যান সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে।
খুব অল্প বয়স থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার অসাধারণ টান। স্থানীয় ক্লাব গ্রান্ডোলিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক ফুটবল যাত্রা শুরু হয়। পরে নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তার ফুটবল প্রতিভা নজর কাড়ে স্পেনের বার্সেলোনার, যারা শুধু তার চিকিৎসার দায়িত্বই নেয়নি, ভবিষ্যতের এক কিংবদন্তিকে গড়ে তোলার পথও তৈরি করে দেয়।
বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে এসে মেসি হয়ে ওঠেন ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল ফুটবলার। কাতালান ক্লাবটির হয়ে শত শত গোল, অসংখ্য রেকর্ড এবং একের পর এক শিরোপা জিতে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও মেসির ক্যারিয়ার ঈর্ষণীয়। আটবার ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি ফুটবলের প্রায় সব বড় ব্যক্তিগত পুরস্কারই শোভা পেয়েছে তার সংগ্রহে। তবে পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি আলোচিত তার খেলার ধরন—ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, গোল তৈরির ক্ষমতা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা।
জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘদিন বড় কোনো শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল তার। ২০১৪ বিশ্বকাপ ও টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার তাকে হতাশ করেছিল। কিন্তু ফিরে এসে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেন।
বিশ্বকাপ জয় মেসির ক্যারিয়ারকে নতুন মাত্রা দেয়। এরপরও তিনি থেমে থাকেননি। ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
৩৯ বছর বয়সেও মেসি বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার মতো একাধিক রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছেন।
মেসি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি যুগের নাম। তার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে—প্রতিভা, পরিশ্রম এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছায় সিক্ত এই আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখে রেখেছেন স্বর্ণাক্ষরে।